খুলনা (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম): অর্থাভাবে চালু হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা না দিলে খালিশপুর শিল্পাঞ্চল অচল করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমিকরা মিল চালু, বকেয়া পাওনা ও উৎসব ভাতা প্রদানসহ নানা দাবিতে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। অবিলম্বে ৫ দফা দাবি দাওয়া মেনে নেয়া না হলে শ্রমিকরা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে তারা। শ্রমিকরা জানায়, ২ মাস বেতন না পেয়ে অর্থকষ্টে রয়েছেন তারা।
জানা গেছে, পুরনো মেশিন ও যন্ত্রপাতিই খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের অন্যতম সমস্যা। প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় মিলটি ঘন ঘন বন্ধ হয় এবং উৎপাদন হ্রাস পায়। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় না। গত ডিসেম্বর মাসে মিলটি ১২ দিন বন্ধ ছিল। এরপর চালু হয়ে আবার বন্ধ হয়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকে মিলের উৎপাদন। জোড়াতালি দিয়ে কোনভাবে মেরামত করে চালু করে উৎপাদন শুরু করা হয়। চলতি বছরের ১৫ জুন মূলধনের অভাবে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
ফার্নেস অয়েলের দাম প্রতি লিটার ২৬ থেকে বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে। মিলে প্রতিদিন উৎপাদনের জন্য ২ লাখ ৮ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ৮ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ওই পরিমাণ ফার্নেস অয়েল ক্রয়ে আরও ৭২ হাজার টাকা বেশী প্রয়োজন হবে। এ হিসেবে প্রতি মাসে ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে।
শ্রমিকরা জানিয়েছে, ১৫ জুন চলতি মূলধনের অভাবে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর থেকে মিলটি বন্ধ রয়েছে। অভাবে মিলটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় জুন, জুলাই মাসের বেতনও পাচ্ছে না শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে অর্থাভাবে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। আগষ্টে কোনভাবে চালু করা হলেও মিলটির উৎপাদন শুক্রবার দুপুর থেকে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ইঞ্জিনিয়ার কাজী রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, মিলের ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র মেরামত করতে পারলে প্রতি মাসে ১৫ লাখ বর্গফুট হার্ডবোর্ড উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ কাজের জন্য ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ১০ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। এই অর্থ পাওয়া গেলে মিলটি চালু করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই মিলের যন্ত্রাংশের বিএমআর করা হয়নি। মিলে চিপার, পারফিং, ফরমিং, হটপ্রেস ও ফিনিসিংসহ ৬টি শাখা রয়েছে। এছাড়া ২টি ওয়ার্কসপ, একটি এয়ার কম্প্রেসার, একটি ফিল্ড ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট একটি স্টীম জেনারেটিং প্লান্ট আছে। উৎপাদনে লাভজনক করার জন্য এ শাখাগুলো বিএমআর করা অতীব জরুরী। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে মিলটি বিএমআরই করার জন্য মিল কর্তৃপক্ষ বিসিআইসি কার্যালয়ে ৪৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
//খুলনা, ২০ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)//একেএ//







