বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন যশোর জেলা গোয়েন্দা সংস্থায় তদন্তাধীন মাদক মামলার আসামি ও আলোচিত দু’মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ক্রাইম পয়েন্ট থেকে টাকা আদায়ের জন্য থানার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নজরুল ইসলাম ও তুহিন নামে ওই দু’মাদক ব্যবসায়ী থানার ওসির নামে অন্ততঃ শতাধিক স্পট থেকে ঘুষ হিসেবে মাসোহারা আদায় করছে। ওই মাসোহারা আদায় করতে যথেচ্ছা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, ভেজাল কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের কাছ থেকে ওসির নামে আদায় করা হচ্ছে মাসে অন্ততঃ ১০ লাখ টাকা। এলাকার লোকজন ঘটনাটি সত্য বললেও অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি ফারুক হোসেন।
সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলা গোয়েন্দা সংস্থা মাস দুয়েক আগে তিন হাজার ৭শ’ ৫০ বোতলের এবং এক হাজার ১শ’ বোতলের দু’টি ফেনসিডিলের চালান আটক করেন। সে সময় শার্শার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী তুহিন ও নজরুলকে ডিবি পুলিশ আসামি করে তাদের আটকে অভিযান চালালে তারা গা ঢাকা দেয়। এখন এ দু’মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে শার্শায় ঘটে গেছে অবিশ্বাস্য ঘটনা। আর তা ঘটাচ্ছেন থানার খোদ অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা গোয়েন্দা সংস্থার মাদকের দু’আসামিকে সম্মানিত করে তাদের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। মাদক স্পট, চোরাকারবারি, ভেজালকারবারি, ধুড় পাচার সিন্ডিকেট, সীমান্ত সংলগ্ন কয়েকটি ঘাটসহ বিভিন্ন অপরাধীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করতে তিনি নজরুল ইসলাম ও তুহিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। থানার ক্যাশিয়ার হিসেবে সারা শার্শা উপজেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ দু’মাদক ব্যবসায়ী। অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন স্বয়ং তাদের মাঠে নামিয়ে অর্থ বানিজ্য করায় তারা অনেকটা পুলিশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, মাদক ব্যবসায়ী কাম অফিসার ইনচার্জের ক্যাশিয়ার নজরুল ইসলাম ও তুহিন শার্শার উলাসী, নাভারন বাজার, পুরাতন বাজার, শার্শার টিএন্ডটি কলোনীর পেছনে, বাালুন্ডা বাজার, জামতলা, টেংরালী, আমড়াখালীসহ অন্ততঃ অর্ধশত স্পট থেকে মাসোহারা আদায় করছে। আদায়কৃত টাকার একাংশ ওই দু’আদায়কারী রেখে দেয়। আর বাকি সব দিয়ে থাকে অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেনকে। অফিসার ইনচার্জ ওই টাকা নিজের পকেটস্থ করাসহ যৎসামান্য কয়েকজন সিনিয়র এসআইকে দিয়ে থাকেন। আবার কয়েকজন নেতাও ওই টাকা থেকে অংশ পেয়ে থাকেন বলেও জানিয়েছে ওই থানার অপর একটি সূত্র।
এর আগে চটকাপোতার রফিকুল ইসলাম ও তার কয়েক সহযোগী ওসির আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। মাস তিনেক ধরে ওসি এ দায়িত্ব দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী তুহিন ও নজরুল ইসলামকে। কিন্তু তারা একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাদকের দুটি বড় চালানের আসামি হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। ওসির সাথে প্রকাশ্যে এ দু’মাদক ব্যবসায়ী ওঠাবসা করছে, আবার গোপনে লেনদেনও করছে। এ ঘটনা নিয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চরম বিতর্কিতও হয়েছেন তিনি। তার নামে অর্ধশত স্পট ও ব্যক্তি মিলিয়ে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন ও এ অর্থ আদায় নিয়ে দু’ক্যাশিয়ারের সাথে প্রতিদিন অপরাধীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে। কোথাও কোথাও গোলযোগও হচ্ছে।
স্থানীয়রা দু’জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও দুটি মামলার আসামিকে থানার টাকা তোলার দায়িত্ব দেয়ার ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়াসহ নজরুল ও তুহিনকে আটক দাবি করেছেন। এর আগে ওসি ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে সাংবাদিক জামাল হত্যা মামলার ধৃত আসামি রাজুর জবানবন্দিতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ বানিজ্যের। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগে প্রকাশ।
এব্যপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আবুল খায়ের জানান, নজরুল ও তুহিন ডিবির মাদক মামলার আসামি। তাদের আটকে কয়েক দফা অভিযানও চলেছে। মামলাটি তিনিই তদন্ত করছেন বলে উল্লেখ করে জানান, নজরুল ও তুহিন পলাতক ছিল। আবার তারা এলাকায় ফিরলে অব্যশ্যই আটক হবে।
এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে শার্শা থানার অফিসার ইনচাজ ফারুক হোসেন জানান, তিনি কোন ক্যাশিয়ার নামাননি। এমন কোন নিয়মও পুলিশে নেই। যদি কেউ তার না ভাঙায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নজরুল কিংবা তুহিনকে তিনি ক্যাশিয়ার হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন এ অভিযোগ সত্য নয়। উল্লেখিত দুজন পুলিশের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড চালালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে কোন অসাধু মহল বানোয়াট অভিযোগ দিয়েছে।
// বেনাপোল, ২২ সেপ্টেম্বর (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর) // টি এম //







