নড়াইল প্রতিনিধি: ডট পদ্ধতিতে বিনামূল্যে যক্ষা রোগের চিকিৎসা নিয়ে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত ৬ বছরে ৬৮হাজার, ৬শত, ৯৭জন মানুষ মরণব্যাধি যক্ষার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছে। মুক্ত আলো বাতাস নিয়ে এ মানুষগুলি বেচেঁ থাকার স্বপ্ন দেখছে। ২০০৪ সাল থেকে ব্র্যাকের মাধ্যমে ডটস পদ্ধতিতে যক্ষা রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকে ডটস পদ্ধতি সফলতা পেতে থাকে। এ পদ্ধতি রোগীদের জন্য সহজ এবং নিরাপদ থাকায় যক্ষা রোগীদের জন্য অতি নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে মাত্র ছয় বছরে এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় যক্ষা রোগের চিকিৎসা দিন দিন এগিয়ে চলছে। খুলনা বিভাগের জেলাওয়ারি সর্বোচ্চ কুস্টিয়া ১২হাজার ৭শত ৬৯ জন,ঝিনাইদাহ ১০ হাজার ৪শত ২০জন,যশোর ৯ হাজার ৮৬ জন,বাগেরহাট ৮ হাজার ৭শত ৭ জন, সাতক্ষিরা ৬হাজার ৬ শত ৩৪ জন,চুয়াডাঙ্গা ৪ হাজার ৮ শত ৯৭ জন,মাগুরা ৪ হাজার ৭শত ৬৯ জন,নড়াইল ৪ হাজার ১শত ৮৬ জন,খুলনা ২০০৬ থেকে ডটস পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় এখানে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭শত ৫০ জন এবং মেহেরপুরে ৩ হাজার ৪ শত ৬৩ জন মানুষ যক্ষা রোগের থেকে মুক্তি পেয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র সরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে সম্পূর্ন বিনামূল্যে যক্ষা রোগের কফ পরীক্ষা ও ঔষধ পাওয়া যায় । অথচ এখনও দেশের সিংহভাগ মানুষ যারা পেশায় দিনমজুরও শ্রমিকও বস্তিবাসি শ্রেণীর তারা যক্ষা রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে যক্ষা রোগের চিকিৎসা করালে যক্ষা রোগ সম্পূর্নরূপে ভাল হয়। অথচ সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে প্রতি বছর শত-শত মানুষ মারা যাচ্ছে। বিভিন্ন সুত্র মাধ্যম জানা গেছে যক্ষায় মৃত ব্যাক্তিরা বেশিরভাগই দিনমজুর,শ্রমিক ও বস্তিবাসি। এ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতাও কম থাকায় এরাই বেশি যক্ষায় আক্রান্ত ব্র্যাক অফিসের সূত্রমতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ৮৫% পার্সেন্ট কিন্তু এ বিভাগের ১০ জেলায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৯৩% পার্সেন্টে দাড়িয়েছে। এ বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলেও সচেতনতার অভাবে সংখ্যাগরিস্ট শ্রেণীর মানুষেরা রয়ে যাচ্ছে চিকিৎসার বাইরে। স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে আমাদের দেশের ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সকল সানুষের শরীরেই কোন না কোনভাবে যক্ষা রোগের জীবানু প্রবেশ করে আছে এবং আমরা যক্ষা রোগে আক্রাšত হয়ে আছি। শুধু তাই নয় পুরুষদের পাশাপাশি এ রোগে নারী ও শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই নতুনভাবে প্রতি লাখে প্রায় ২২৫ জন মানুষ যক্ষায় আক্রাšত হয় এবং এর মধ্যে থেকে ৪৫ জন্ মারা যায়। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় যক্ষা রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচী শুরূ করে। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষার প্রাদূর্ভাব ও মৃত্যুর হার অর্ধেকে আসবে এ লক্ষ্য নিয়েই যক্ষার কাজ চলছে। যক্ষা নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম একটি কর্মসূচী। সরকারি এ কর্মসুৃচী সফল করতে হলে অবশ্যই দিনমজুর,শ্রমিক শ্রেণীসহ বস্তিবাসিদের চিকিৎসার আওতায় আনার পদক্ষে নিতে হবে অন্যথায় এ কর্ম সুচী সফলতা আসবে না বলে সচেতন মহল মনে করছেন। এ কর্মসূচী সফল করার জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ দেশের কয়েকটি এনজিও নিরলসভাবে কাজ করছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক। জানা গেছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা সদর হাসপাতাল,উপজেলা হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন ,পৌর এলাকা , সামরিক হাসপাতাল এলাকায় ব্র্যাক এর স্বাস্থ্য কর্মীরা যক্ষা রোগের কফ পরীক্ষা করছে। ব্র্যাকের ৮শত ৪জন মাঠ কর্মীর মাধ্যমে প্রতি মাসে ১ হাজার ৬শত ৮টি কেন্দ্রের থেকে কফ পরীক্ষায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন এবং কফ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়ে থাকে। যক্ষা রোগ সনাক্ত হলে রোগীরা বিনামূল্যে সম্পূর্ন সুস্থ্য হওয়া পর্যন্ত ঔষধ পেয়ে থাকে শুধু তাই নয় ব্র্যাক কর্মীরা ডটস পদ্ধতিতে রোগির বাড়ি বাড়ি গিয়ে সময় মত ঔষধ সেবন করিয়ে দিয়ে আসেন। ব্র্যাকের ডটস পদ্ধতি যথেস্ট কার্যকারিতার স্বাক্ষরও রেখে চলেছে। ডটস পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেওয়া রোগী সিদ্দিকুর রহমান, উর্মি রহমান বলেছেন তাদের যতোদিন রোগ ছিল ততোদিন তাদের ঔষধ সেবনের জন্য কোন চিšতা ছিলোনা। ব্র্যাকের কর্মীরা প্রতিদিন তাদের বাড়িতে গিয়ে ঠিক সময়ে এসে তাদেরকে ঔষধ সেবন করাতে উৎসাহিত করিয়েছে। সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন যক্ষা এখন আর মরণ ব্যাধি নয়। ঠিক সময়ে কফ পরীক্ষা এবং ব্র্যাকের কর্মীদের মাধ্যমে ডটস পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিলে যক্ষা রোগ থেকে অবশ্যই মুক্তি পাওয়া যায়। ব্যাকের ডটস পদ্ধতিতে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে যক্ষা থেকে মুক্রি পাওয়া যায়। যক্ষা জীবনঘাতি সংক্রামক রোগ যা ফুসফুস ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত করে।
এ রোগ বংশগত নয়। যক্ষা বাতাসের মাধ্যমে যক্ষা রোগীর হাচি-কাশির মাধ্যমে সুস্থ্য ব্যাক্তিদের শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে। যক্ষার লক্ষনঃ- এক নাগাড়ে তিন সপ্তাহ বা তার বেশী সময় কাশি , রাতে জ্বর জ্বর আসা,ক্ষুধা কমে যাওয়া,শরীরের ওজন কমে যাওয়া,বুকে ব্যথা, শ্বাস কস্টও কাশির সাথে রক্ত পড়লে বুঝতে হবে যক্ষা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যাক্তির উচিৎ তাৎক্ষনিক কফ পরীক্ষা এবং ঔষধ সেবন শুরূ করা। যক্ষা রোগ হয়েছে এমন চিকিৎসা পত্র নিয়ে রোগীরা স্ব-স্ব এলাকার ব্র্যাক অফিসে যোগাযোগ করে ডটস পদ্ধতিতে এ রোগের চিকিৎসা করাতে পারেন এতে এক দিকে যেমন রোগির ঔষধ সেবনের কোন চিন্তা থাকে না অন্যদিকে সম্পূর্ন সুস্থ্য হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্র্যাক থেকে ঔষধ পেয়ে থাকেন। একজন যক্ষা রোগী ডটস পদ্ধতিতে মাত্র ৬-৮ মাস ঔষধ সেবন করলেই এ রোগ থেকে আরগ্য লাভ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। ব্র্যাকের নড়াইল ব্যবস্থাপক মোঃ আবুল বাশার বলেছেন যক্ষা এখন আর মরণ ব্যাধি নয়। এ রোগের চিকিৎসা সঠিক সময়ে করালে সম্পূর্নরূপে সুস্থ্য হওয়া সম্ভব। তিনি বলেছেন সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা না করানো হলে মৃত্যু হতে পারে। তিনি বলেছেন এখন প্রতিটি ইউনিয়নেই যক্ষা রোগের কফ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। ব্র্যাকের কর্মীরা সোমবার ও বুধবার ইউনিয়নে গিয়ে যক্ষা রোগীদের সনাক্ত করছে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকে।তিনি আরো বলেছেন যক্ষা রোগের লক্ষন দেখা মাত্র কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে যক্ষা রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়। যক্ষা এখন আর মরণ ব্যধি নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন শুধু মাত্র সচেতন হলেই এখন এরোগের চিকিৎসা ঘরে বসেই পাওয়া যায়।
// নড়াইল, ১৮ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর) // টি এম//






