সংলাপের আহ্বান জানালো বিএনপির - ব্যর্থদের উপদেশ সরকার কেন শুনবে: প্রধানমন্ত্রী - ২০১২ সালে বাংলাদেশে হত্যা ৩০, গুম ১০: অ্যামনেস্টি - বিজিএমইএ ভবন না ভাঙতে আপিল
   
হোমপেজ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি খেলা বিশ্ব প্রযুক্তি শিক্ষা স্বাস্থ্য সাহিত্য ও বিনোদন আলোর পথে 
   

দিনাজপুরে অভিভাবকহীন বিএনপি, আওয়ামী লীগে কোন্দল

দিনাজপুর প্রতিনিধি: মন্ত্রী এবং এমপি গ্র“পের দ্বন্দ্বের কারণে হ-য-ব-ল অবস্থা বিরাজ করছে দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগে। এ দু’টি গ্র“পের দ্বন্দ্বের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলা আওয়ামীলীগসহ তার অঙ্গ সংগঠনগুলো। ভাটা পড়েছে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে। অন্যদিকে জেলা বিএনপি হয়ে পড়েছে নেতৃত্বশূণ্য। নেতার অভাব নেই দলে। সবাই যেনো নেতা! নেতৃত্বের প্রভাব ফেলতে চায় দলে। এ কারণে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগে মূল দু’টি গ্র“পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন,ভূমি প্রতিমন্ত্রী ্এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এবং  সদর আসনের এমপি ইকবালুর রহিম। এ গ্র“প দু’টি ছাড়াও আরও কয়েকটি গ্র“প তৈরী হয়েছে। গ্র“প থেকে মূলতঃ উপ-গ্র“পও রয়েছে। দুই নেতার পরষ্পরবিরোধী সমর্ম্পকের প্রভাব পড়েছে চেম্বার অব কমার্স,প্রেসক্লাব,সাংবাদিক ইউনিয়ন,শিক্ষক সংগঠন সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনে। এসব সংগঠনের অধিকাংশ বিভক্তি হয়ে পাল্টা-পাল্টি সংগঠন গড়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ঐক্য না থাকলেও ঐক্য রয়েছে ভাগ-বাটোয়ারায়। টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, বদলী বাণিজ্য ও বিশেষ বরাদ্দ ভাগাভাগি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঠিকই গ্র“পগুলো নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের ঐক্য রয়েছে। বিশেষ বরাদ্দ, টিআর, জিআর, কৃষি ভূর্তকী, একটি বাড়ি-একটি খামারের বরাদ্দ অধিকাংশ চলে যায় সুবিধাবাদী নেতা-কর্মীদের পকেটে। পুকুর খনন বরাদ্দের টাকা হরিলুট হয়েছে। পুকুর খননের নামে হয়েছে পুকুর চুরি। আর এ কারণে দল ঘেষা টোকাই কিংবা কাজের বুয়ার ছেলেও হয়েছেন কোটিপতি। স্ব-নামে, বে-নামে ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রতিষ্ঠান,স্বয়-সম্পত্তি কেনার পাশা-পাশি অনেকে তৈরী করেছেন আলীশান বাড়ী আর কেউবা করেছেন রাজকীয় গেট। রাজনৈতিক বিশে¬ষকদের মতে, ভাগাভাগির অংশিদ্বারিত্ব নিয়েই মতোঐক্যে পৌছাতে পারছেনা নেতারা। এ কারণের গ্র“প থেকে সৃষ্টি হয়েছে উপ-গ্র“পে। আর এসব কারণে সুবিধা বঞ্চিত এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে অসন্তোষ, চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। হতাশায় ভূগছেন কেউ কেউ। বিতর্কিত কর্মকান্ডে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দল থেকে দুরে সরে যাচ্ছেন।

দুই নেতার পরষ্পরবিরোধী সমর্ম্পকের প্রভাব পড়েছে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের ওপর। এর ফলে ভেঙে পড়েছে দলটির চেইন অব কমান্ড। কেউ কাউকে তোয়াক্কা করেন না বলে গত ৯ বছর ধরে কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। এতে চাপা ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশায় ভুগছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা। ফলে অনেকেই সরে দাঁড়িছেন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে। সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি চাউলকল ব্যবসায়ী আজিজুল ইমাম খাটকু চৌধুরী। অন্য দিকে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান এমপির মন্ত্রিত্ব লাভের পর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তুলে দেন জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আহসান লালের কাঁধে। ভারপ্রাপ্ত এ দুই নেতা রয়েছেন মন্ত্রীর গ্রুপে। সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমকে সহজভাবে নিতে পারেননি তাঁরা।ইকবালুর রহিম নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম ছিলেন সদর আসনের একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ওই সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামলে চলতে হয়েছে তাঁর পিতাকে। দলের বিভক্তির সময় বাকশালের পক্ষে অবস্থান ছিল পরিবারটির। মূল দলে ফিরলেও বিষয়টি সহজভাবে নেননি কট্টোরপন্থী নেতা-কর্মীরা। বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম ছিলেন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পিতার সঙ্গে ছেলের ছিল একই মেরুর রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা। পরে মূল দলে যুক্ত হলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়তে ব্যর্থ হয়েছে পরিবারটি। স্থানীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের আশঙ্কায় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমের বিরোধীদের সংখ্যাই বেশি। ফলে তাঁর সঙ্গে মাঠে ও মঞ্চে শুধু দেখা মেলে যুব মহিলা লীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিছু নেতা-কর্মীর। মূল দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তবে দলীয় কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে নিজ নিজ আখের গোছাতে ব্যস্ত তাঁরা। দিবসভিত্তিক দলীয় কর্মকাণ্ড চলছে চার দেয়ালের মধ্যেই। মাঠ পর্যায়ে চোখে পড়ার মতো বড় ধরনের সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি দলটির স্থানীয় নেতাদের। বিভিন্ন মেলা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কাটা ছাড়া মন্ত্রীকেও তেমন দেখা যায় না সাংগঠনিক কাজে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের মতে, মন্ত্রী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট (ছয়টি) উপজেলা নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর নামে পৃথক আরেকটি জেলা গঠন করতে চাইছেন। ওই এলাকার দুটি কয়লাখনি এবং মধ্যপাড়ার পাথরখনি নিয়ে নতুন জেলায় মাইন সিটি গড়ার প্রতিশ্রুতি তাঁর। এ কাজে অনেক দূর এগিয়েছেন তিনি। দিনাজপুরের পরিস্থিতি অনুভব করেই পৃথক জেলা গঠনের পর সাংগঠনিকভাবে তৎপর হওয়ার ইচ্ছে তাঁর। তিনি টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর আসনে।

এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজুল ইমাম খাটকু চৌধুরী গত নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন দিনাজপুর সদর আসনে। মনোনয়ন পান ইকবালুর রহিম। মনোকষ্টে ভুগেন তিনি। এমপি পদে মনোনয়ান না পেয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে। তবে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থীর কাছে। পরাজয়ের মূলে দলীয় এমপি ইকবালুর রহিমের দিকে অভিযোগের আঙুল তাঁর। তবে মন্ত্রীর আশীর্বাদে দলীয় ভাবে দিনাজপুর জিলা পরিষদে প্রশাসকের পদে মনোনয়ন পান আজিজুল ইমাম খাটকু চৌধুরী। এতে এমপি ইকবালুর রহিমের উন্নয়ন বরাদ্দে ভাগ বসান তিনি। খবরদারীও করেন এমন অনুযোগ অনেকের।
জেলার রাজনীতিতে মন্ত্রী ও এমপি গ্রুপ সাংগঠনিক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ না হলেও নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি, টেন্ডারবাজির ক্ষেত্রে দারুণ সখ্য তাঁদের অনুসারীদের। ভাগ-বাটোয়ারায় দিনাজপুরে“পঞ্চ পান্ডব” নামে একটি গ্র“পও রয়েছে। নিয়োগ এবং টেন্ডারে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপির সংকেত ছাড়া কিছুই হয় না। তিনি রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য। অনুরূপভাবে এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, গণপূর্ত, জেলা পরিষদ, ফ্যাসিলিটিস ডিপার্টমেন্টসহ অন্যান্য সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন মন্ত্রী গ্রুপের কথিত নেতারা।

সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম বলেন, “’ভিন্ন মত থাকতে পারে, কোনো দ্বন্দ্ব নেই স্থানীয় মন্ত্রীর সঙ্গে। আমাদের নির্বাচনী এলাকা আলাদা। এমপিরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নকাজে ব্যস্ত। এ কারণে একসঙ্গে থাকা হয় না। অল্প সময়ের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করছি। আমার এলাকায় দুর্নীতি-অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। আমি কখনও অপরাধীদের প্রশ্রয় দেই না। কথিত পঞ্চ পান্ডব সম্পর্কে এমপি ইকবালের কোন মন্তব্য নেই বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর্জা আশফাক জানান,কথিত পঞ্চ পান্ডব আসলে কোন নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নয়। এরা সুবিধাবাদী।  মন্ত্রী ও এমপির দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, ‘ভূমি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার টানা পাঁচবারের অপরাজিত নির্বাচিত এমপি। নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বে মোস্তাফিজারের সমকক্ষ নন ইকবালুর রহিম এমপি। একাই চলেন ইকবালুর রহিম। মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপিসহ ছয়জন এমপি।’

এদিকে বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দিনাজপুর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। তবে হয়ে পড়েছে অভিভাকহীন। নেতার অভাব নেই দলে। সবাই যেনো নেতা! নেতৃত্বের প্রভাব ফেলতে চায় দলে। এ কারণে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। বিরোধী দলের যে  কর্মসূচী তা পালতে হিমসিম খাচ্ছে। ইফতার পার্টিতেও বসার সিট নিয়ে নেতাদের মধ্যে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিই পেয়েছিল চারদলীয় জোট। এর মধ্যে দ’ুটি আসন পায় জামায়াতে ইসলামী শরিক দল। অথচ গত সংসদ নির্বাচনে একটি আসনও পায়নি তারা। গত নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থীদের পরাজিত করে ছয়টি আসনেই জয় পেয়েছে মহাজোট। দিনাজপুর সদর আসনে দলীয় প্রার্থী সংকটের কারণে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল জাগপা নেতা শফিউল আলম প্রধানকে। অনেকের মতে, দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক হলেও এলাকার ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছিল ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের। যদিও সামান্য ভোটের ব্যবধানে মহাজোট প্রার্থীর কাছে হেরে যান শফিউল আলম প্রধান। বর্তমানে দলটির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো। এর জন্য সম্মিলিত সাংগঠনিক দক্ষতাকে চিহ্নিত করেছেন জেলা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু।মাঠ পর্যায়ে দল গুছানো থাকলেও এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন হলে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে চারটিতে প্রার্থী সংকটে পড়তে হবে দলটিকে। যোগ্য প্রার্থীর অভাব রয়েছে। প্রার্থী সংকটের কারণে ২০০১ সালে দিনাজপুর-১ ও ৬ আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান মিন্টু বলেন, বর্তমানে সবকয়টি আসনেই জয় পাবার অবস্থায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল।১/১১ পরিস্থিতিতে ছিটকে গেছেন জেলা বিএনপির প্রথম সারির নেতারা। কর্তৃত্ব হারিয়ে জেলা শহর ছেড়ে বর্তমানে অন্য জেলায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ১/১১ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে নবাগতরা নেতৃত্ব এবং দল গুছানোয় এগিয়েছেন অনেকটা পথ। ১৯৯১ সাল থেকে জেলা বিএনপির একক কর্তৃত্ব ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন বেগম খুরশিদ জাহান হক ‘চকলেট আপার’ হাতে। চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর মায়ের স্থানে নেতৃত্ব চেয়েছিলেন তাঁর দুই ছেলে ডন অথবা ডেল। ছেলেদের যেকোনো একজনকে মায়ের মতো করে নেতৃত্ব গড়ে দিতে চেয়েছিলেন মন্ত্রীর অনুগত বলে পরিচিত আশরাফুল আলম, মোকলেছুর রহমান রওশন, আবু তাহের আবু, খালেকুজ্জামান বাবু, এ কে এম আজাদ, ডা. শফিকুর রহমান তরুণ, আমিনুর হাসানসহ জনা দশেক নেতা। তাঁদের এলটেন (লুটেরা-১০) হিসেবে চিহ্নিত করেন দলের কিছু নেতা-কর্মী। এ প্রসঙ্গে জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম বলেন, এলটেন শব্দটি ছিল দলের ভেতরকার বিরুদ্ধবাদী নেতাদের বানানো রাজনৈতিক মুখরোচক গল্প। তারা আসলে বিএনপির কেউ নয়। অন্যদল থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলের স্থানীয় নেতাদের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছে। সেই সময়ের কমিটির সবাই যদি লুটেরা হতেন, তা হলে ১/১১ সরকার এবং বর্তমান সরকার আমলে কেউ পার পেতেন না। তবে যে দু-একজন অভিযুক্ত হয়েছিলেন সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। লুটেরার কাহিনী সত্য হলে এ ধরনের অভিযোগ আসা উচিত ছিল বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মুখ থেকে।
জেলা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টু বলেন, বর্তমান কমিটি ঐক্যবদ্ধ, নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দক্ষ সাংগঠনিক তৎপরতায় দলকে মাঠ পর্যায়ে গুছিয়ে আনা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সফলতার মুখ দেখেছেন তাঁরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অপকর্মে ভোটাররা বেছে নেন বিএনপির প্রার্থীদের।
জেলার ১৩টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বিএনপি দলের প্রার্থীরা জিতেছেন ৪৯টিতে। সদরে ১০টি ইউনিয়নেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। পৌরসভা এবং সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম বলেন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এলাকার ভোটারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন মরহুম খুরশিদ জাহান হকের নেতৃত্বে ব্যাপক উন্নয়ন কাজের ফলশ্রুতিতে। ওই সময়ের জেলা নেতারা ছিলেন সৎ এবং ঐক্যবদ্ধ। এ কারণে গত সংসদ নির্বাচনে শফিউল আলম প্রধান এক লাখ ১০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। বিপুল ভোট পাওয়ার নেপথ্য কারণ ওই চকলেট আপার উন্নয়ন কাজের প্রতিফলন। এই ফলাফলে বর্তমান কোনো কর্তৃত্ব নেই জেলা কমিটির।
// দিনাজপুর, ১৪ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)// এসবি//


PrintFriendly

© 2013 Bangla News | Bangladeshi News Portal | Bengali newspaper of Bangladesh. All Rights Reserved.

Designed by PSD to XHTML Company | Powered by Wordpress

About Us | Contact Us
Copyright © 2010 by BanglaTimes24.com, All Rights Reserved.