মাদারীপুর প্রতিনিধি: ভরা বর্ষাতেই মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটের প্রমত্তা পদ্মা নদীজুড়ে পানির জন্য হাহাকার নেমে এসেছে। অস্বাভাবিক হারে পানি কমে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে ফেরিসহ নৌ চলাচল। শুক্রবারও একটি ফেরি ৮ ঘন্টা ডুবোচরে আটকে ছিল। ফেরিগুলো ধারনক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে গত ঈদের মতো আসন্ন ঈদেও ঘন্টার পর ঘন্টা দিনের পর দিন ডুবোচরে ফেরি লঞ্চ আটকে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ার শংকা দেখা দিয়েছে।গত বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ঈদের দিনসহ সপ্তাহজুড়ে ডুবোচরে ফেরি আটকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরিসহ নৌ চলাচল বন্ধ ছিল।
গত ২৪ ঘন্টায় এ রুটের পদ্মায় ৬ সে.মি. পানি কমেছে। গত এক সপ্তাহে এ রুটের পদ্মা নদীতে ৪২ সে.মি পানি হ্রাস পেয়েছে ।একদিকে অস্বাভাবিক হারে পানি হ্রাস ও অব্যাহভাবে পলি পড়ছে অপরদিকে কোন ড্রেজিং না করায় পদ্মার অসংখ্য স্থানে ডুবোচর জেগে উঠছে। এরমধ্যে কবুতরখোলা টার্নিংটি রয়েছে সবচেয়ে সংকটময় অবস্থায়। এই পয়েন্টের ডুবোচরে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টা রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিন ৯ টি যাত্রীবাহী বাসসহ ২৩ টি যানবাহন নিয়ে আটকে ছিল। একই স্থানের ডুবোচরে ধাক্কা লেগে গত ৩ আগষ্ট এমএল সাথী লঞ্চটির তলা ফেটে দেড় শতাধিক যাত্রী নিযে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। গত এক সপ্তাহে আরো দুটি ফেরি ডুবোচরে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটে। গত এক সপ্তাহ আগে চ্যানেলটি আধা কিলোমিটার ঘুরিয়ে নৌপথের দুরত্ব বাড়লেও কোন সুফল আসেনি। বরং ডুবোচর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে চ্যানেলটি সরু হয়ে পড়ছে। এছাড়া কাউনিয়ারচর, হাজরা, কাঠালবাড়ি, লৌহজংয়ের একাধিক স্থানে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠছে। একই কারনে লঞ্চ চলাচলকারী কাঠালবাড়ি -মাগুরখন্ড চ্যানেলটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। চ্যানেলে পর্যাপ্ত মার্কিং বা সিগন্যাল বাতি না থাকায় সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। ফলে রুটটির ১৩ টি ফেরি, ৮১ টি লঞ্চ, ৫ শতাধিক স্পীডবোট, ২ শতাধিক ট্রলার বর্তমানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধারনক্ষমতার চেয়ে কম নিয়ে চলাচল করছে।
// মাদারীপুর, ১৩ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)// এসবি//







