বাংলাটাইমস রিপোর্ট: নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে তার সমাধান করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বিএনপি প্রণীত রূপরেখাটি দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে বলে জানান। গত ২ জুলাই খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখার খসড়া প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এই বিষয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ হলেও মওদুদের মাধ্যমেই প্রথম বক্তব্য এল।
বিএনপি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে চাইলে বিরোধী দলও যোগ দিতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “বর্তমান সরকারের আচরণের কারণে তাদের ওপর আমরাসহ সবার অবিশ্বাস শতগুণ বেড়ে গেছে। তারা প্রশাসনকে এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে নির্বাচনের সময়ে এই প্রশাসনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। আর এজন্যই আমরা নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলেছি।”
“কেবল নির্দলীয় সরকার গঠন হলেই হবে না। তাদের বর্তমান প্রশাসনকে বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দলীয় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিসি-এসপি-ইউএনও-ওসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে সেখানে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
সরকারে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, “১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান স্টিফেন রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুই দল থেকে ৫ জন করে সদস্য নিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন কেন শেখ হাসিনা তা প্রত্যাখ্যান করলেন।”
“এই দলটির কোনো নীতি নেই। তারা ’৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। ১৭৩ দিন হরতাল করছে। এখন তারাই আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সংযোজন করেছে, বলেন তিনি।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার হলেও নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে দাবি করেন মওদুদ। এ জন্য নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় ঈদের পর বিএনপি কঠোর আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
‘আগামীর বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে ‘সঙ্কটের আবর্তে বাংলাদেশ : উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম।
সংগঠনের সভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ওসমান ফারুক, আসাদুজ্জামান রিপন, রফিক শিকদার বক্তব্য রাখেন।
// ঢাকা, ১১ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)// এসবি//






