মনপুরা প্রতিনিধি: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মূলভুখন্ডের ১নং মনপুরা ইউনিয়নের সীতাকুন্ড গ্রামের পূর্ব পাশের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ১০ গ্রাম প্লাবিত। দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে প্রায় ৩ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে ধারণা করছেন ভূক্তভোগীরা। জোয়ারের পানিতে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য গবাদী পশু-পাখির। পানিবন্ধী হওয়ায় প্রায় একহাজার একর জমির ফসলসহ বীজতলা নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয় চাষীরা জানায়। রমযানে পানি বন্ধী মানুষের দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের পাশে পানি উন্নায়ন বোর্ড কতৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত পূর্ব পাশের সীতাকুন্ড গ্রামের সংলগ্ন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৪০ ফুট এলাকা রাক্ষুসে মেঘনার আগ্রাসী ছোবলে ভেঙ্গে যায়। এতে জোয়ারের পানি ঢুকে মনপুরা ইউনিয়ন ও হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতীন, চরঞ্জান, সীতাকুন্ড,সোনারচর, তালতলা, কুলাগাজীর তালুক, আন্দীর পাড়, মাছুয়াখালী, কাউয়ারটেক, ঈশ্বরগজ্ঞ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। দিনে প্রবাহিত দুই বারের জোয়ারে মানুষ প্রতিদিনই পানিবন্ধী থাকে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য গবাদী পশু-পাখির। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বীজতলাসহ এক হাজার একর জমির ফসল। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাধঁ ভেঙ্গে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৮ শতাধিক ঘর-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে আছে। যা পরিবারের সদস্যদের বসবাসের অনুপযোগী। পানিবন্ধী মানুষগুলো সাইক্লোন সেন্টারে ও আতœীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় সীতাকুন্ড গ্রামের মো. কুদ্দুস, জামাল, মফিজ বলেন বেড়ি বাধঁ ভাইঙ্গা জোয়ারের পানিতে আমাগো ঘরবাড়ি ডুইবা আছে। আমাগারে দেহানের কেউ আসেনি। এই রমযান মাসে আমাগো কষ্ট দেহার মত কেউ আইয়ে নাই। নতুন কইরা বেড়িবাঁধ না হইলে আমাগো বাড়ি-ঘর জোয়ারের পানিতে ভাইসা যাইবো।
এদিকে নতুন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার এত দিন পরও বেড়ি বাঁধ নির্মাণ না করে পানির প্রবাহ রোধ না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। পানিবন্ধী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি কবলিত বাড়ির লোকজন জোয়ারের সময় এলে কেউ কেউ ঘরের চালায়,কেউ কেউ রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। এরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন ভাটির টানে পানি নেমে যাবে। পানি নেমে গেলেই যে যার যার বাড়ির ফিরে যাবেন। এছাড়া শত শত গবাদী পশু নিয়ে রাস্তায় চলে আসছেন অনেকে। এহেন পরিস্থিতিতে মানুষের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম মুঠো ফোনে জানান, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। জরুরী ভিক্তিতে নতুন বেড়ি বাধঁ নির্মাণ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ জেলা প্রশাসক’কে অবহিত করেছি। দুই একদিনের মধ্যে নতুন বেড়ি বাধেঁর কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
//মনপুরা, ৬ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর)//এম.সি//







