জাবি প্রতিনিধি: সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ছাত্রের নামোল্লেখসহ ১৭৫ জনকে আসামি করে আশুলিয়া ও সাভার থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বদরুল আলম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার গঠিত ৬ সদস্যের কমিটি লিখিত আদেশ না পাওয়ায় এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে প্রশাসন এ ঘটনাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখছে না বলে জানান তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরহাদ হোসেন। গত ২ দিনে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতার কারণে ঈদের ছুটি এগিয়ে এনে জাবি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পুলিশও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা তাহমিদুল ইসলাম লিখনকে কুপিয়ে আহত করেন দুর্বৃত্তরা। পরে মধ্যরাতে লিখনকে আহত করার অভিযোগে মীর মোশারফ হলের ৩৯তম ব্যাচের সন্দেহভাজন ছাত্র নাহিদকে আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ওই হলের ছাত্রদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ ছাত্র গুলিবিদ্ধ ও কমপক্ষে আরো ৩০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে জাবি ক্যাম্পাস। সব ছাত্র হল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায় ক্ষুব্ধ ছাত্ররা পুলিশ ভ্যানসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রায় ২৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিন্ডিকেট সদস্যদের বৈঠকে আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত জাবি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ও ছাত্রীদের শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের হামলায় মারাত্মক আহত হন ইংরেজি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্র জুবায়ের। পরদিন ভোরে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
// জাবি, ০৩ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)// এসবি//







