ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: আফ্রিকা থেকে আনা খরা সহিষ্ণু নেরিকা ধান এখন ঝিনাইদহের কৃষকদের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। জমিতে নেরিকা ধান রোপনের ৩ সপ্তাহর মধ্যে থোড় এবং শীষ গাজিয়ে গেছে। ফলে শত শত কৃষক ফলন কম হওয়ার আশংকায় নেরিকা ধান ক্ষেত ভেঙ্গে অন্য জাতের ধান রোপন করতে শুরু করেছে। এই ধান রোপন করে সদর উপজেলার কৃষকদের দেড় কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩৭৫ জন কৃষকের মাঝে ৩ হাজার কেজি নেরিকা জাতের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি, সাগান্না, মধুহাটি, গান্ন্া ও হলিধানিসহ সদরের প্রায় সব কটি ইউনিয়নের কৃষকরাই নেরিকা ধান রোপণ করেন। কিন্তু এই ধান রোপন করে বাম্পার ফলন তো দুরের কথা অল্প দিনে শীষ গজানোর ফলে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে অনেকটা দিশেহারা। কৃষকদের অভিযোগ কৃষি বিভাগ নেরিকা ধান অন্য ধানের চেয়ে বেশি উচ্চ ফলনশীল বলে ঘোষনা দিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকদের এই ধান রোপনে উৎসাহিত করে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষি অফিসার আব্দুল মজিদ জানান, নেরিকা ধানের চারা ২০ দিন বয়স হলেই জমিতে রোপন করতে হয়। কৃষকদের অনভিজ্ঞতার কারনেই ধানের অবস্থা এমন হয়েছে। কারণ বেশির ভাগ কৃষক চারার বয়স বেশি হলে রোপন করেছে। এতে অল্প দিনে শীষ বের হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটীর কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, তার এক বিঘা জমিতে নেরিকা ধান রোপন করতে খরচের পরিমান দাড়িয়েছিল ৪ হাজার টাকা। কিন্তু অল্প দিনে শীষ গজানোর ফলে আবার নতুন করে সেই জমিতে অন্য জাতের ধান রোপন করতে হয়েছে, যা তাদের জন্য দুঃসংবাদ। নেরিকা তাদের জন্য গলার কাটা বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষক দাউদ জানান, নেরিকা ধান চাষ করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষকদের লোকসান হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিউল আলম জানান, যতদুর শুনেছি নেরিকা ধান চাষ করে কৃষকরা তেমন সুফল পাচ্ছেন না। তিনি আরো জানান, মাত্র ৯০ দিনে এই ধান কর্তন করা যায়। তাই ধান রোপনের তিন চার সপ্তাহের মধ্যে থোড় গজানো আশ্চর্য্যরে কিছু নয়। তিনি বলেন, যে সব কৃষক ফলন হ্রাসের আশংকায় নেরিকা ধান ক্ষেত ভেঙ্গে অন্য জাতের ধান রোপন করেছেন তাদের ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলেও জানান।
// ঝিনাইদহ, ০১ আগস্ট (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম)// এসবি//






