টেকনাফ প্রতিনিধি: শাহপরীর দ্বীপের ৩০ হাজার বাসিন্দা জীবন সংগ্রামে পরাজিত হতে চলেছে। সাগরের ঢেউয়ের সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠতে পারছেন দ্বীপবাসী। শাহপরীরদ্বীপ রক্ষা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সাগরের জোয়ারের পানি হানা দিচ্ছে এ এলাকার লোকালয়ে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ টি গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘর অন্যত্রে সরে গেছে। আবার কেউ প্রস্তুতি নিয়েছে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে। এদিকে টেকনাফ- শাহপরীর দ্বীপ সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে দু’পারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। গত তিন ধরে ভারি বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ধাক্কায় লন্ডভন্ড শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের বিশাল তিনটি অংশ ভেঙ্গে গেছে। জোয়ারের সময় এ ভাঙা অংশ দিয়ে সমুদ্র তার তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে অনবরত। ২৫ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- সমুদ্র তীরের কাছাকাছি যে সমস্ত মানুষ বসতি গেড়েছিল তারা এখন সব কিছু হারিয়ে অন্যত্রে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরকম আশ্রয় নেয়ার মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারেরও বেশি। স্থানীয়রা বলছেন, ইতিমধ্যে ঘর-বাড়ি ছাড়া দোকান পাঠ, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা সাগর গিলে খেয়েছে। শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া, ডাঙ্গর পাড়া, পশ্চিম পাড়ার পাশাপাশি আরো নতুন এলাকায় সাগর তার আগ্রাসন শুরু করেছে। যে কোন মুহুর্তে বাকি গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা স্থানীয়দের। অপরদিকে শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা রাস্তা ভেঁঙ্গে যাচ্ছে। মানুষ চলাচলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে বাঁশের সাঁকো। আবার কেউ নৌকা দিয়ে চলাচল করছে। শাহপরীরদ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৌলানা ফরিদুল আলম বলেন- সম্ভাবনাময় শাহপরীর দ্বীপের ভবিষ্যৎ এখন বড়ই সংকটাপন্ন। সাগরের তোড়ে আক্রান্ত ভিটে- মাটি ছাড়া মানুষগুলো কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে তা অনেকেরই জানা নেই। এভাবে সাগরের ঢেউয়ের কাছে পরাজিত শত শত মানুষ গ্রাম ছাড়ছে সুখের আপন নিবাস ছেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন- শাহপরীর দ্বীপ বাসীদের হয়তো একদিন শরণার্থী জীবনের পথই বেঁচে নিতে হবে। নিজ গ্রামে শরণার্থী হয়ে থাকতে কোন আদিবাসীই চাইবে না হয়তো কোনদিন শাহপরীর দ্বীপ বাসীকে তাই-ই বরণ করে নিতে হচ্ছে। স্থানীয় মুহাম্মদ ছৈয়দ জানান- এমনিভাবে একদিন বদর মোকাম বাসীকেও এই চরম পরিণতি মেনে নিতে হয়েছিল। বদরমোকাম আজ বিলুপ্ত। রাক্ষুসে সাগর গ্রামটিকে কবে গিলে খেয়ে ফেলেছে, সেই হিসেব কে রাখে আর। শাহপরীর দ্বীপের অদূরে নাফনদী বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি বদর মোকাম নামে একি ছোট দ্বীপ ছিল। এখানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের অঘোষিত সমুদ্র বন্দর ছিল। পণ্যবাহী জাহাজ এখানে নোঙ্গর করত। এসব কারণে বদর মোকামে একটি জনবসতি জনপদ গড়ে উঠে। মসজিদ মাদ্্রাসা স্কুল মাঠ ঘাট নারিকেল গাছ সবই ছিল এখানে। তিনি বলেন- কালের বিবর্তনে ১৮৬১ সালে বদরমোকামকে লন্ডভন্ড করে দেয় ঘুর্ণিঝড়। পর্যায়ক্রমে ১৯৬৫ সালের বন্যা ও ১৯৭০ সালের তুফানে বদরমোকাম বিলিন হয়ে যায় সাগরের সাথে। পুরো শাহপরীর দ্বীপও সাগরের সাথে মিশে যেতে কিংবা বিলীন হতে হয়তো বেশি দিন লাগবে না। গত ৩ দিনে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে পশ্চিম পাড়ার ডাঙ্গর পাড়া সহ সম্ভানাময় পর্যটন স্পট শাহপরীর দ্বীপের কয়েকটি গ্রাম সাগরের সাথে মিশে রয়েছে। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে পশ্চিম পাড়ার ২৫/৩০ পরিবারের শত শত মানুষ নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। আর সর্বহারা এ মানুষগুলোর শেষ আশ্রয় কোথায় তা কারো জানা নেই। ইতোমধ্যে উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি, সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শাহপরীরদ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। অতি দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ভাঙ্গা অংশ সংস্কার করে শাহপরীরদ্বীপকে রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
// টেকনাফ, ২৫ জুলাই (বাংলাটাইমস টুয়েন্টিফোর) // টি এম //







